শুক্রবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৩

"অন্ধকারের প্রান্তর, অসমাপ্ত প্রতিক্ষা- একটি ভূতের গল্প"

 








এম,আমিনূর রহমান।


হতচ্ছড়া বৃষ্টি যেন আজ পিছু ছাড়ছে না।অঝোর ধারায় ঝরেই চলেছে।ঘরে থাকলে ওস্তাদ গোলাম আলীর কন্ঠে মেঘ-মল্লার শুনতাম।কিন্তু ভিজে পড়ে ২ কিলোমিটার হাটতে হবে এই বৃষ্টির মাঝে তাতেই মনটা খরাপ হয়ে যাচ্ছে।গ্রামের মাটির রাস্তা কাদা হবে তো নিশ্চিৎ,কিন্তু উপায় নেই বাড়ী যেতেই হবে।পূব আকাশটা একটু ফর্সা লাগছে,একটু অপেক্ষা করি যদি বৃষ্টি থামে।একটি দোকানের ঝাপেরনিচে দাড়িয়ে আছি।দোকানী লোকটা মাল পত্র গুছিয়ে ফেলেছে অনেক আগেই,ছাতাটা দু'তিনবার হাতে নিয়ে আবার রেখে দিয়েছেন।বুঝলাম আমি ঝাপের নিচে দাড়িয়ে আছি বলেদোকান বন্ধ করতে পারছে না।আমার অন্য কোথাও দাড়ানো উচিৎ।

এক দৌড়ে উঠে গেলামএকটি পুরানো দালানে।অনেক প্রাচীন স্থাপনা "কুমুদ চন্দ্র দাতব্যচিকিৎসালয়"চুন সুরকির ১৮ ইন্চী চওড়া প্রাচিরের দেয়ালে খোদাই করে লেখা।"স্থাপিত ১৮৮৪ সন ইং"অনেক কষ্টে এই লেখাটি উদ্ধার করা গেল।বৃষ্টি আরো জোরে শুরু হলো।অস্থির লাগছে কি যে করি বুঝতে পারছি না।ঘড়িতে রাত ১১টা প্রায়।হটাৎ পেছনে কারো আওয়াজ পেয়ে ভূত দেখার মতচমকে উঠলাম।বেশ লম্বা ছিপছিপে গড়নের একটি মেয়ে,হাতে একটি পার্স।

চেহারাটা কেমন যেন চেনা চেনা লাগছে ঠিক মনে করতে পারছি না।অনেক চেহারা এমনও থাকে যে দেখলেই চেনা চেনা লাগে,তেমন কেউ হবে হয়তো।সোজা হেটে আমার কাছে চলে এলো,বললো- ভয় পেলি নাকি-আমি বীণা,তোদের সেই- বীণা রানী সাহা।মনে আছে আমার কথা?আমি সম্বিৎ ফিরে পেলাম,বললাম-আরে বীণা তুই এতো রাতে এখানে কি করছিস?সাথে কেউ নেই? ও আমার কথার কোন জবাব না দিয়ে বললো,এ বৃষ্টি থামবার নয় চল হাটা শুরু করি।

আমি বললাম এই বৃষ্টিতে ভিজলে নিশ্চিৎ জ্বরে পড়তে হবে।একটি ছাতাও নেই আমাদের কাছে।

-যা নেই তা নিয়ে আফসোস করে লাভ কি?চল নেমে পড়ি ।চারটে ধাপ সিড়ি নামতেই পুরো ভীজে জবুথবু হয়ে গেলাম।সামনে বীণা আমি পেছনে।রাস্তায় নেমে এলাম,রাস্তাটা খুবই অন্ধকার দু'পাশের লম্বা গাছগুলো মনে হচ্ছে দু'পাশে দু'টো  কালো দেয়াল মাঝখান দিয়ে কর্দমাক্ত পথে অতি কষ্টে আমরা হাটছি।ও আমার থেকে বেশ কিছুটা সামনে চলে গেছে,আমি দ্রুত পা চালিয়ে ওর নাগাল পাওয়ার চেষ্টা করছি এটা বুঝে ও থামলো।কাছে আসতেই বললো-

থাকিতে চরণ মরণে কি ভয় নিমেষে যোযন ফরসা,

মরণ হরণ নিখিল স্বরণ জয় শ্রীচরন ভরসা।

 


বলেই সেই ওর ভূবন ভুলানো হাসিটা ছুড়ে দিলো স্বসব্দে।বীণা স্কুলের সব চেয়ে মেধাবী ছাত্রী ছিলো সাথে সাথে ভীষন বুদ্ধিমতী একটি মেয়ে।আমার সাথে এই পাঁচ বছর পর দেখা।SSC পাস করে আমি শহরে চলে গেলাম,আর HSC করারপর সোজা  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।দেখা সাক্ষাতও হয়নি খোজ-খবরও নেয়া হয়নি।আজ এতো বছর পর দেখা হলো তাও কিনা এভাবে।আমাদের একই গ্রামে বাড়ী।ছোট বেলায় এই পথ দিয়ে স্কুলে যেতাম দু'জনে আরো অনেকের সাথে।কিন্ত ওই ছিলো আমার ভালো বন্ধু যার কাছ থেকে আবহেলা বা তিরস্কার পাইনি কখোনো বরং সহযোগীতা পেয়েছি অনেক।হাটছি তো হাটছি সামনে কিছুই দেখা যাচ্ছে না ঘুটঘুটে অন্ধকার।হটাৎ মনে হলো বীণা আমার কাছাকাছি কোথাও নেই।অনেক্ষন  দু'জনার মধ্যে কোন কথা হচ্ছে না।ওর কোন নড়াচড়ার শব্দও পাচ্ছি না,শুধু নিজের পায়ের সব্দ নিজে শুনছি।

-বীণা ...তুই কই?তোর কোন সাড়া-সব্দ নেই কেন?

দূর থেকে ও চেচিয়ে বললো- একটু দ্রুত পা চালা,যেভাবে হাটছিস তো বাড়ী যেতে ভোর হয়ে যাবে। মনে হলো যেন বহু দূর থেকে ওর গলা ভেসে এলো।আমি দ্রুত পা চালালাম ওর কাছাকাছি পৌছাতে হবে।কিন্তু কোথায় গেল মেয়েটা এখানে বেশ আলো রয়েছে।রাস্তার দু'পাশে কোন গাছ নেই।বৃষ্টিটা ধরে এসেছে তবে বাতাশ আছে ,বেশ ঠান্ডা লাগছে।হটাৎ খেয়াল করলাম বীণা পাশের ধান ক্ষেত থেকে উঠে আমার দিকে আসছে।আমি বললাম ধান ক্ষেতের মধ্যে কি করছিস,কোথায় গেছিলি।ও আমার দিকে না তাকিয়ে বললো-তুই আগে যেমন বোকা ছিলি এখন তার চেয়ে বেশী বোকা হয়েছিস।মেয়েদের নিত্য প্রাকৃতিক কাজের বিষয় জিগ্যেস করতে হয় না,আর তারা বলতেও পারে না।

 

আমি আসলেই একটু বোকা ধরনের মানুষ।ছোট বেলার কথা 

-তখন আমি এবং বীণা সবে প্রাইমারী স্কুলে ভর্তি হয়েছি।একমাস মতো স্কুলে গেছি।সকালে শুরুর ক্লাসে হেড স্যার সবার রোল কল করে।একে একে সবাই দাড়িয়ে ইয়েস স্যার বলে কিন্তু এই ১ মাস ধরে আমি ভূলের মধ্যে আছি।আমি মনে করি সবাই হেড স্যার বলে জবাব দেয়।একদিন হলো কি হেড স্যার থানা সদরে কি একটা অফিসিয়াল কাজে গেছেন।আমাদের ক্লাস নিবেন গৌর বাবু যিনি স্কুলে ফোর্থ স্যার নামে পরিচিত।আমি অবাক হয়ে লক্ষ করলাম রোলকল করার সময় সবাই ভূল উত্তর দিচ্ছে,একে একে সবাই জবাব দিচ্ছে হেড স্যার।সবাই ভূল করলেও আমিতো আর ভূল করতে পারিনা।আমার নাম ডাকার সাথে সাথে আমি দাড়িয়ে জবাব দিলাম"ফোর্থ স্যার"।স্যার রোল কল থামিয়ে দিলেন,আমার দিকে তাকালেন শান্ত ভাবে বললেন এদিকে আয়।আমি মনে করলাম সবাই ভূল করছে যেখানে, সেখানে আমি সঠিক বলেছি,পুরস্কার কিছু একটা পেতেও পারি।বুক ফুলিয়ে স্যারের টেবিলে গিয়ে হাজির হলাম।আচমকা আমার গর্দান ধরে নিচের দিকে চেপে পিঠের উপর দুম করে একটা কিল বসিয়ে দিয়ে টেবলের নিচে মাথাটা ঢুকিয়ে দিলেন।গর্জন দিয়ে বলে উঠলেন-

আমার সাথে ফাজলামো হচ্ছে?ফাজিল কোথাকার,বেতিয়ে লাল করে ফেলবো আজ।আমি হতভম্ব এটা কি হলো পুরস্কারের বদলে তিরস্কার ।ক্লাস শেষ হলে বীণা আমার ভূলটা ধরিয়ে দিলো।বীণা এখনো তেমনই বুদ্ধিমতী আর আমি বোকাই রয়ে গেছি।

ওর আর আমার সম্পর্ক যখন অনেক গভীর বলে আমার মনে হচ্ছিল তখন আমি একটা কান্ড করে বসি।সে বছর আমাদের SSC পরীক্ষা।আমি অনেক যত্ন করে বীণাকে একটি প্রেম পত্র লিখলাম।বীণা কি করলো জানেন?সেই চিঠি আমার বাবাকে দিয়ে দিলো।কি মারটাই না খেলাম বাবার হাতে।তখন আমার খুব অভীমান হয়েছিল যে আর কখনোই বীণার সাথে কথা বলবো না।কিন্তু সে প্রতিজ্ঞা পূরন হয়নি।কথা বলতে বলতে বাড়ীর কাছে এসে গেছি।কিছুটা সামনে এগুলে আমার বাড়ী তার থেকে দু'শ গজ পার হয়ে বামের রাস্তা ধরে অল্প কিছুদূর গেলেই বীণাদের বাড়ী।আমি বললাম-এতোদুর একসাথে এলাম কিন্তু এতো রাতে তুই কোথা থেকে এলি,কেন এলি কিছুইতো জানা হলোনা।বীণা বললো- তাহলে তুই যা, কাল বাড়ীতে আসিস সব বলবো।

-এখান থেকে কিভাবে যাবি?

-বিলের ভীতর দিয়ে সর্টকাট মারবো।বীণা জবাব দিলো

-আরে ওটাতো শ্বশান ঘাট,দিনের বেলায়ও ওদিক দিয়ে কেউ যায় না।ঐ শ্বশানে ভূত প্রেতের 

আড্ডা-তুই জানিস না?

-আমি তো নিজেই একটা ভূত-প্রেত।আমার কাছে কেউ আসবে না।তুই যা সকালে দেখা হবে।বলেই ও যাবার জন্য পা বাড়ালো।

- তাহলে চল আমি পৌছে দিয়ে আসি।ও এবার আমার দিকে ঘুরে দাড়ালো।

বললো-সামনে বাঁশের শাঁকোটা ভাঙ্গা, আমার শাড়ীটা গায়ে শুকিয়ে গেছে।এটাকে আর 

ভেজাবো না।এটাকে হাতে নিয়ে খাল সাঁতরে পার হবো।তুই সামনে থাকলে কি পারবো?

আমি বললাম তার দরকার কি সোজা রাস্তায় চল।আমি তোকে বাড়ী পর্যন্ত পৌছে দিয়ে আসি।

আমার কথা শেষ হবার আগেই বীণা রাস্তা থেকে নেমে বাম পাশে বিলের মধ্যে দিয়ে হাটা শুরুকরলো আর মুহুর্তেই অন্ধকারে মিশে গেলো।


পরদিন সকালে আমার ঘুম থেকে উঠতে বেশ দেরী হলো।কাল রাতে বড় একটা ধকল গেছে।তবে সকালে বেশ ফুরফুরে মেজাজ।বীণাদের বাড়ীতে গিয়ে ওর সাথে দেখা করতে হবে।"মন ছুটেছে তেপান্তরে" এমনই অবস্থা তখন আমার।তড়িঘড়ি করে রেডি হয়ে নাস্তা শেষ করে বেরিয়ে গেলাম ঘর থেকে।বীণাদের বাড়ীতে যাবার রাস্তায় ঢুকতেই অরুনের সাথে দেখা।অরুন বীণার জ্যাঠার ছেলে।ওদের একান্নবর্তী পরিবার।দু'ভায়ের এক ব্যাবসা,একসাথে, চাউলের আড়ৎ।বড় ভায়ের এক ছেলে এই অরুন আর ছোট ভাইয়ের এক মেয়ে বীণা।মনে হবে আপন ভাই-বোন-পিঠোপিঠি দু'সন্তান।

আমরা একই বয়সী,বন্ধুও বটে।ও আমাকে পেয়ে ভীষন খুশি,টেনে পাশে বসালো।নরম ঘাসের উপর বসে পড়লাম।তোর খবর বল অরুন,- এখন কি করছিস?

-কি আর করবো,বাবার চালের আড়তে পার্ট টাইম।

- আর ফুল টাইম তোর ক্লাব আর বন্ধু-বান্ধব? আমি বললাম।

ও একটা দীর্ঘসাস ছেড়ে বললো

-নারে ,বীণা চলে যাবার পর আমাদের বাড়ীর লক্ষীও ওর সাথে চলে গেছে।

- বীণা কোথায় চলে গেল?-কৌতুহল নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম।

ও বেশ কিছুক্ষন নীরব থেকে আমার মুখের দিকে তাকালো।বললো তুই কিছু জানিস না,কারো কাছে কিছু শুনিসনি বীণার ব্যাপারে?

-না, আমি বললাম।

ও মাথা নিচু করে নখ দিয়ে কয়েকটা ঘাসের আগা ছিড়ছে,নীরব।আমি ওকে কনুই দিয়ে একটি খোচা দিয়ে বললাম

 -কি হলো বল।

ও এবার বলতে শুরু করলো

-তুই তো জানিস বীণা খুবই ভালো ছাত্রী ছিলো।SSC পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করাতে আমরা সবাই খুব খুশী ছিলাম।তুই চলে গেলি শহরে,তাই কিছু জানিস না।বীণার বিয়ে ঠিক করলেন কাকু,বাবাও মত দিলেন।কিন্তু বীণা বেকে বসলো,সে আরো পড়তে চায়।শুরু হলো সংসারে মহা ঝামেলা।বুদ্ধিমতী আমার বোনটা সব কিছু মেনে নিয়ে,বড় ত্যাগ স্বীকার করে শেষ পর্যন্ত বিয়ের পিড়িতে বসলো।কিন্তু যার সাথে বিয়ে হলো সে ছিলো একটা জানোয়ার।আমার বোনটাকে বাপের বাড়ী থেকে টাকা নিয়ে দেবার জন্য চাপ দিতে শুরু করে।প্রথম দিকে বীণা তার বুদ্ধীমত্তা খাটিয়ে এটাকে সামাল দিতে চেষ্টা করে।কিন্তু পারে না।আমাদের কাউকে একথা সে কোন দিনই বলেনি।কাউকে বুঝতেই দেয়নি যে সে এতো বড়ো সমস্যার মধ্যে দিয় যাচ্ছে।

একদিন গভীর রাতে বীণা বাড়ীতে এলো,কেমন যেন উদ্ভ্রান্ত চেহারা।বাড়ীর সবাই প্রশ্নের পর প্রশ্ন করে চললো।এতো রাতে একা কোথা থেকে এলি?জামাই কোথায়?সে সাথে আসেনি কেন? বীণা শুধু একটি কথা বললো।এখন কোন কথা বলবো না,এখন আমি ঘুমাবো তোমরা যাও কাল সকালে সব বলবো।বলেই দরজা বন্ধ করে দিলো।

অরুন এবার চুপ,আমি ওকে আবার কনুয়ের খোঁচা দিলাম

-শেষ কর বললাম আমি

কিছুক্ষন চুপ থাকার পর যা বললো তাতে আমার কি অবস্থা হলো বলে বোঝাতে পারব না।আসুন ওর মুখেই শুনি।

-ঐ রাতেই একেবারে শেষ দিকে আনুমানিক ভোর ৪টার দিকে কে যেনো আমাদের সদর দরজায় কড়া নাড়ছে।আমি তখন ঘুমে,,শুনতে পাইনি।মায়ের ধাক্কা-ধাক্কিতে ধড়-মড় করে উঠে বসলাম।মা বললেন সদর দরজায় কেউ কড়া নাড়ছে খুলে দেখ মনে হয় বীণা রাগ করে বাড়ী থেকে চলে এসেছে বলে জামাই এতো সকালে হাজির হয়েছে।

আমি চোখ ডলতে ডলতে গেট খুলে তো আক্কেল-গুড়ুম,এতো দেখি পুলিশ।আমাকে কোন প্রশ্ন করার সুযোগ না দিয়ে তারা ১০/১২ জন বাড়ীর ভীতরে ঢুকে পড়লো।ভেতরে ঢুকেই গড গড কর প্রথমেই বাবার কামরায় ঢুকে পড়লো অফিসার গোছের লোকটা। বাবার সাথে ওসি সাহেবের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় শোনা যাচ্ছে বাইরে থেকে।কি নিয়ে তর্ক হচ্ছে বোঝার জন্য আমি একটু কাছে এগিয়ে গেলাম।সেই বিতর্ক ছাপিয়ে দক্ষিন দিক থেকে কানে এলো মহা শোরগোল আর কাকিমার বুকফাটা আর্তচিৎকার।

বীণার নিথর দেহ নিম গাছ থেকে নামানো হচ্ছে।পুলিশ ধরাধরি করে লাশ নামাচ্ছে।ফাঁসীর দড়িটা গলার মধ্যে অনেকটা বসে গেছে।শরীর শক্ত হয়ে গেছে।বিভৎস চেহারা।লাস কাপড় দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়েছে।

একটু থেমে অরুন আবার বলতে শুরু করলো।অরুন বললো-বীণা ওর স্বামীকে খুন করে পালিয়ে এসেছিলো সে রাতে।


-এটা কতদিন আগের ঘটনা অরুন?

-অনেক আগের, তিন বছরের কিছু বেশী হবে।

তারপর দু'জনেই চুপ।আমি তখন কাল রাতের ঘটনা গুলো ভাবছি।কিভাবে হলো?কেন হলো?কাল রাতের ঘটনা তো মিথ্যা নয়।তবে একথা কাউকে বললে সে কি বিশ্বাস  করবে?মনে হয় না।আমি গতকাল রাতের কথা অরুনকে সেদিন বলিনি শুধু অরুন কেন এতো বছর কাউকে বলিনি।এই ঘটনা একান্তই আমার, এই ভয়ংকর সুখস্মৃতি শুধুই আমার হয়েই থাক ।কাউকেই শেয়ার করতে চাইনি।

আমার বুক থেকে শুধু একটা দীর্ঘস্বাস বেরিয়ে এলো।উঠে বাড়ীর দিকে হাটতে শুরু করলাম প্রচন্ড বেগে বাতাশ বইছে পূবদিক থেকে।শোঁ শোঁ সব্দের সাথে যেন কারো কান্না মিশে ম্রিয়মান এ প্রকৃতি।চলতে চলতে সে কান্না মিশে যায় আকাশের নীল সরোবরে।আমি হতবাক হয়ে চেয়ে থাকি অনিমেষ।

সমাপ্ত।




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন